জার্মানির বিখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভক্সওয়াগেন। এই গাড়ির খ্যাতি জগৎ জুড়ে। এবার প্রতিষ্ঠানটি সাইকেল তৈরির প্রতি মনোনিবেশ করেছে। হঠাৎ কেন এমন সিদ্ধান্ত?
এই
মুহূর্তে সাইকেলের বাজারে বড় কোনও গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের প্রবেশ
ঘটেনি। সেই ক্ষেত্রে চমক দিতে পারে ভক্সওয়াগেন, এমনটাই আশা সকলের। তবে
সাধারণ সাইকেল নয়, ইলেকট্রিক বাইসাইকেল বানাবে অটোমোবাইল নির্মাতা
প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বাজারে ই-সাইকেলের গুরুত্ব উপলব্ধি করার
পথে নেমেছে ভক্সওয়াগেন। বর্তমানে ইউরোপের একাধিক দেশ যেমন ফ্রান্স, ইতালি,
নেদারল্যান্ড, ডেনমার্ক সুইডেনে গাড়ি ছেড়ে সাইকেল ধরছে সাধারণ মানুষ।
পরিবেশ বান্ধব বিকল্প হিসেবে সাইকেলকেই প্রধান অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। সেই
সব বিষয় চিন্তা করে ইলেকট্রিক বাই-সাইকেল বানাতে উদ্যোগী ভক্সওয়াগেন। যদিও
প্রাথমিক ভাবে সরাসরি ঝাঁপাবে না তারা। প্রতিষ্ঠানটির অধীন ভক্সওয়াগেন
ফিনান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে এই ব্যবসা করা হবে।
সাইকেলের
বাজারে পা জমাতে পন হোল্ডিংসের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে ভক্সওয়াগেন। এই
কোম্পানি ইউরোপ ও আমেরিকার বৃহত্তম ইলেকট্রিক বাইক মোবিলিটি সংস্থা।
বর্তমানে জার্মানি, অস্ট্রিয়া, নেদারল্যান্ড সুইডেন, বেলজিয়াম এবং মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে ই-বাইক বিক্রি করে তারা। এই কোম্পানির ৪৯ শতাংশ শেয়ার
কিনেছে ভক্সওয়াগেন। দুই প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে ইউরোপ ও আমেরিকা মহাদেশে
ইলেকট্রিক সাইকেলের বাজার বৃদ্ধি করার লক্ষ্য নিয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
৬৫ হাজার কোম্পানির ৬ লাখেরও বেশি কর্মচারীকে সাইকেল সরবরাহ করেছে পন
হোল্ডিংস। যার মধ্যে ৯০ শতাংশ ইলেকট্রিক সাইকেল। প্রতিষ্ঠানটির লক্ষ্য, এই
সংখ্যা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে। কারণ বহু নাগরিক গাড়ির তুলনায় ইলেকট্রিক
সাইকেল ব্যবহার করার মনস্থির করেছেন।
পন
হোল্ডিংসের অধীনে ৮০০০ ডিলার রয়েছে। এই বিশাল নেটওয়ার্ক প্রমাণ করে যে
বিশ্বের একাধিক দেশে ইলেকট্রিক সাইকেলের চাহিদা কীভাবে বেড়ে চলেছে। যেখানে
নাম লেখাতে এবার যোগ দিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী জার্মান অটোমোবাইল সংস্থা
ভক্সওয়াগেনও। সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও অফিস খুলেছে পন হোল্ডিংস।
যেখানে কয়েক হাজার কর্পোরেশন সাইকেল নেওয়ার আগ্রহ জানিয়েছে। এই চাহিদাকে
মাথায় রেখে ভক্সওয়াগেনের পরিকল্পনা ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করছেন অনেকে।


No comments: